একটি অসমাপ্ত ভালোবাসার গল্প

বিষণ্ণতার শহরে

কিছু মানুষ হারিয়ে যায় না—তারা আমাদের ভেতরে একটি শহর হয়ে বেঁচে থাকে।

♡ রোমান্টিক ড্রামা◷ ১০–১২ মিনিটঢাকা, বাংলাদেশপ্রাপ্তবয়স্ক চরিত্র
গল্প পড়া শুরু করুন ↓
বিজ্ঞাপন

চরিত্র: আরিয়ান (২৯), একজন ফটোগ্রাফার; মেহরিন (২৬), একটি বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর; নীল (৩০), আরিয়ানের বন্ধু। গল্পটি ঢাকা শহরের বৃষ্টি, স্মৃতি, আকর্ষণ ও একটি অপ্রত্যাশিত সত্যকে ঘিরে।

০১

বৃষ্টির রাতে প্রথম দেখা

গুলশান, ঢাকা · রাত ৮টা

ঢাকার রাস্তায় বৃষ্টি হচ্ছে। গাড়ির হেডলাইটে ভেজা রাস্তা চকচক করছে। একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টের কাচের জানালার পাশে বসে আছে আরিয়ান। সামনে এক কাপ কফি, হাতে ক্যামেরা।

দরজা খুলে ভেতরে ঢোকে মেহরিন। কালো পোশাক, খোলা চুল, চোখে হালকা কাজল। বৃষ্টিতে চুলের কিছু অংশ ভিজে কপালে লেগে আছে। আরিয়ান তাকিয়ে থাকে। মেহরিন তাকে দেখে কিছুক্ষণ থেমে যায়।

মেহরিন: এত বছর পরও তুমি এই জায়গাটায় আসো?

আরিয়ান: কিছু জায়গা বদলায় না। শুধু মানুষগুলো বদলে যায়।

মেহরিন: মানুষ বদলায়, নাকি তাদের অনুভূতি?

আরিয়ান: অনুভূতি বদলায় না। মানুষ শুধু অভিনয় করতে শিখে যায়।

মেহরিন মৃদু হাসে। তার সামনে বসে। দুজনের চোখাচোখি হয়। নীরবতার মধ্যে লুকিয়ে আছে তিন বছরের অভিমান, না বলা ভালোবাসা আর অসমাপ্ত গল্প।

মেহরিন: আমাকে মিস করেছিলে?

আরিয়ান: প্রতিদিন।

মেহরিন: তাহলে খুঁজে নাওনি কেন?

আরিয়ান: কিছু মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু ফিরে পাওয়া যায় না।

মেহরিনের হাসিটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যায়।

কফির কাপ থেকে ধোঁয়া উঠছিল। মেহরিন কাপের গায়ে আঙুল বুলিয়ে বলল, “তুমি এখনও কফি ঠান্ডা করে খাও?” আরিয়ান হেসে ফেলল। “তুমি এখনও ছোট ছোট ব্যাপার মনে রাখো?” দুজনেই বুঝল—তিন বছর দূরে থেকেও তাদের স্মৃতির ঘরটা একেবারে ফাঁকা হয়নি।

বাইরে বৃষ্টি আরও ঘন হলো। জানালার কাচে জমে থাকা জলরেখার ওপারে শহরটা ঝাপসা। মেহরিনের চোখে ক্লান্তি, তবু তার উপস্থিতিতে আরিয়ানের বুকের ভেতর পুরোনো এক উষ্ণতা ফিরে এল। সে হাত বাড়িয়ে মেহরিনের ভেজা চুল সরাতে গিয়েও থেমে গেল। অনুমতি না পাওয়া পর্যন্ত কিছু স্পর্শ করা যায় না—এই শিক্ষা সে দেরিতে হলেও শিখেছে।

০২

পুরোনো প্রেমের আগুন

রেস্টুরেন্টের বাইরে · রাত ৯টা

বৃষ্টি একটু কমেছে। মেহরিন আর আরিয়ান ফুটপাত ধরে হাঁটছে। রাস্তার পাশে একটি গাড়ি এসে থামে।

মেহরিন: তুমি এখনো একা থাকো?

আরিয়ান: হ্যাঁ।

মেহরিন: কেন?

আরিয়ান: কাউকে জায়গা দিতে পারিনি।

মেহরিন: আরিয়ান, এসব কথা বলো না।

আরিয়ান: কেন? সত্যি শুনতে কষ্ট হয়?

মেহরিন তার দিকে তাকিয়ে থাকে। আরিয়ান ধীরে ধীরে কাছে আসে। দুজনের দূরত্ব কমে আসে।

আরিয়ান: তুমি যখন আমার সামনে দাঁড়াও, আমার মনে হয় পৃথিবীর সব শব্দ থেমে গেছে।

মেহরিন: আর আমার মনে হয়, আমি আবার সেই মেয়েটা হয়ে গেছি, যে তোমার একটা মেসেজের জন্য সারারাত জেগে থাকত।

আরিয়ান তার হাতটা আলতো করে ধরে। মেহরিন হাত সরিয়ে নেয় না।

মেহরিন: আরিয়ান, আমরা কি আবার শুরু করতে পারি?

আরিয়ান: শুরু তো অনেক আগেই হয়েছিল। শেষটা শুধু আমরা মেনে নিয়েছিলাম।

তাদের প্রথম দিকের দিনগুলো ছিল খুব সাধারণ, অথচ সেই সাধারণতার ভেতরেই ছিল এক অদ্ভুত মায়া। অফিস শেষে রিকশায় পাশাপাশি বসা, রাস্তার ধারের চায়ের দোকানে ভাগ করে নেওয়া এক কাপ চা, কিংবা রাত জেগে ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলা। মেহরিন কথা বলার সময় হাত নেড়ে বোঝাত, আরিয়ান চুপচাপ শুনত—তার মনে হতো, পৃথিবীর সব শব্দের চেয়ে এই কণ্ঠটাই বেশি আপন।

এক সন্ধ্যায় মেহরিন বলেছিল, “ভালোবাসা মানে শুধু পাশে থাকা নয়, কঠিন সময়েও সত্যিটা বলা।” আরিয়ান তখন কথাটাকে সহজ মনে করেছিল। আজ বুঝতে পারে, সত্যি লুকিয়ে কাউকে রক্ষা করতে গেলে কখনও কখনও সেই মানুষটাকেই সবচেয়ে বেশি আঘাত করা হয়।

০৩

এক রাত, দুটি হৃদয়

আরিয়ানের অ্যাপার্টমেন্ট · রাত ১১টা

ঢাকার আকাশে মেঘ জমেছে। বারান্দায় দাঁড়িয়ে আছে মেহরিন। শহরের আলো দূরে ঝাপসা। আরিয়ান দুটো কফির কাপ নিয়ে আসে।

আরিয়ান: কফি।

মেহরিন: তুমি এখনো মনে রেখেছ, আমি চিনি ছাড়া কফি খাই?

আরিয়ান: তোমার ব্যাপারে এমন কিছু নেই, যা আমি ভুলেছি।

মেহরিন কাপটা হাতে নেয়। দুজনের কাঁধে কাঁধ লেগে আছে। কিছুক্ষণ পর মেহরিন মাথাটা আরিয়ানের কাঁধে রাখে। আরিয়ান তার চুলে আলতো করে হাত বুলিয়ে দেয়।

মেহরিন: জানো, আমি অনেকবার ভেবেছি, তোমার কাছে ফিরে আসব।

আরিয়ান: তাহলে আসোনি কেন?

মেহরিন: ভয় পেতাম। যদি দেখি, তুমি আর আমাকে ভালোবাসো না?

আরিয়ান: আর যদি আমি বলি, আমি এখনো তোমার জন্য অপেক্ষা করছি?

মেহরিনের চোখে জল জমে। সে আরিয়ানের বুকের কাছে এগিয়ে আসে। আরিয়ান তাকে আলতো করে জড়িয়ে ধরে। তিন বছর পর সে আবার সেই পরিচিত বুকের স্পন্দন শুনতে পায়।

মেহরিন: তোমার কাছে এলে আমার সব ভয় চলে যায়।

আরিয়ান: আর তুমি কাছে না থাকলে আমার সব সাহস হারিয়ে যায়।

মেহরিন মুখ তুলে তাকায়। আরিয়ান ধীরে তার কপালে চুমু খায়। মেহরিন মৃদু হাসে, তারপর নিজেই আরিয়ানের ঠোঁটে আলতো চুমু দেয়। বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়।

আরিয়ান: এবার আর কোথাও যেতে দিও না নিজেকে।

মেহরিন: এবার তুমি আমাকে হারিয়ে ফেলো না।

সেই রাতের নীরবতা ধীরে ধীরে তাদের মাঝের দূরত্ব কমিয়ে আনছিল। মেহরিনের আঙুল টেবিলের ওপর আরিয়ানের হাতের কাছে এসে থামল। আরিয়ান তাকাল; মেহরিন চোখ নামিয়ে মৃদু বলল, “এতদিন পরেও তোমার পাশে বসলে মনে হয়, সময়টা একটু থেমে গেছে।” আরিয়ান তার হাতের ওপর নিজের হাত রাখল—নরম, দ্বিধাহীন এক স্পর্শ।

তাদের কথার ফাঁকে দীর্ঘ বিরতি এল। সেই বিরতিতে কোনো অস্বস্তি ছিল না; ছিল পুরোনো পরিচয়ের নিশ্চিন্ততা আর নতুন করে কাছে আসার সংকোচ। মেহরিনের চোখে জল চিকচিক করছিল। আরিয়ান খুব আস্তে বলল, “আজ যদি তুমি চাও, আমি শুধু শুনব। কোনো ব্যাখ্যা চাপিয়ে দেব না।” মেহরিন মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।

০৪

যে সত্যি লুকানো ছিল

আরিয়ানের অ্যাপার্টমেন্ট · পরদিন সকাল ৭টা

সকালের আলো পর্দার ফাঁক দিয়ে ঘরে ঢুকছে। মেহরিন সোফায় বসে কফি খাচ্ছে। আরিয়ান রান্নাঘরে নাশতা তৈরি করছে।

মেহরিন: আরিয়ান, তুমি কি কখনো আমাকে ঘৃণা করেছিলে?

আরিয়ান: না।

মেহরিন: একবারও না?

আরিয়ান: তোমাকে ঘৃণা করার জন্যও তো তোমাকে ভালোবাসতে হতো।

মেহরিন মাথা নিচু করে। তারপর ব্যাগ থেকে একটি পুরোনো খাম বের করে আরিয়ানের দিকে বাড়িয়ে দেয়।

মেহরিন: এটা তোমার জন্য।

আরিয়ান খামটা খোলে। ভেতরে একটি পুরোনো ছবি—তিন বছর আগের, আরিয়ান আর মেহরিনের। ছবির পেছনে লেখা: “তুমি যদি কোনোদিন আমাকে ভুলে যাও, এই ছবিটা দেখে মনে রেখো—আমি তোমাকে সত্যিই ভালোবেসেছিলাম।”

আরিয়ান: এটা তুমি এখনো রেখেছ?

মেহরিন: সবকিছু।

আরিয়ান: তাহলে তুমি চলে গেলে কেন?

মেহরিন: কারণ আমি তোমাকে একটা সত্যি বলতে পারিনি।

আরিয়ান: কী সত্যি?

মেহরিন চোখ বন্ধ করে।

মেহরিন: তিন বছর আগে, যেদিন আমি তোমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলাম... সেদিন আমি একা ছিলাম না।

আরিয়ান: মানে?

মেহরিন: আমার সঙ্গে একটা ছোট্ট জীবনও ছিল।

নীরবতা। ঘরের ঘড়ির শব্দ শোনা যায়। আরিয়ানের হাতে থাকা ছবিটা মেঝেতে পড়ে যায়।

আরিয়ান: আমাদের সন্তান?

মেহরিন: হ্যাঁ। সে এখন তিন বছরের।

আরিয়ান: তুমি আমাকে বলোনি কেন?

মেহরিন: কারণ সেদিন তোমার জীবনটা ভেঙে যাচ্ছিল। তুমি তোমার বাবাকে হারিয়েছিলে। তোমার কাজ ছিল না। তোমার নিজের থাকার জায়গা ছিল না। আমি ভেবেছিলাম, আমার এই খবর তোমাকে আরও ভেঙে দেবে।

আরিয়ান: তুমি আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে?

মেহরিন: আমি ভুল করেছি।

আরিয়ান: তুমি জানো, আমি কতটা একা ছিলাম?

মেহরিন: জানি।

আরিয়ান: না, তুমি জানো না। আমি প্রতিদিন ভাবতাম, তুমি আমাকে ভুলে গেছ। আর তুমি... তুমি আমাদের সন্তানকে নিয়ে একা ছিলে?

মেহরিন: হ্যাঁ।

মেহরিনের কণ্ঠ কেঁপে উঠল, কিন্তু সে কথা থামাল না। “আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে বিশ্বাস করো। অথচ তুমি আমার হয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে—কী জানব, কী জানব না।” আরিয়ান মাথা নিচু করল। নিজের ভুলের পক্ষে যুক্তি সাজানো সহজ ছিল; কিন্তু তার সামনে বসে থাকা মানুষটির চোখে যে ক্ষত, তার কোনো যুক্তি ছিল না।

আরিয়ান বলল, “আমি ভয় পেয়েছিলাম। তোমাকে হারানোর ভয়। সেই ভয়েই তোমার কাছ থেকে সত্যিটা সরিয়ে রেখেছিলাম।” মেহরিন দীর্ঘশ্বাস ফেলল। “ভালোবাসা যদি ভয় দিয়ে বাঁচে, তাহলে সেটা একসময় দুজনকেই বন্দি করে। আমি তোমাকে ঘৃণা করিনি, আরিয়ান। আমি শুধু নিজের বিশ্বাসটাকে আর চিনতে পারছিলাম না।”

০৫

অপ্রত্যাশিত টুইস্ট

একটি শিশুদের পার্ক · বিকেল ৪টা

ঢাকার একটি ছোট্ট পার্ক। আরিয়ান বেঞ্চে বসে আছে। মেহরিন তার পাশে। একটি ছোট্ট মেয়ে দোলনায় বসে হাসছে। মেয়েটার নাম আয়রা।

মেহরিন: আয়রা, এদিকে আসো মা।

আয়রা দৌড়ে আসে। আরিয়ানের সামনে দাঁড়িয়ে কৌতূহলী চোখে তাকায়।

আয়রা: তুমি কে?

আরিয়ান: আমি... তোমার একজন বন্ধু।

আয়রা মেহরিনের দিকে তাকায়।

আয়রা: মা, উনি কি সেই মানুষটা, যার ছবি তুমি রাতে দেখো?

মেহরিন স্তব্ধ হয়ে যায়। আরিয়ানও।

আয়রা: আচ্ছা, তুমি কি আমার বাবা?

চারপাশের শব্দ যেন থেমে যায়। মেহরিন চোখ বন্ধ করে। আরিয়ান ক্যামেরা নামিয়ে রাখে। সে হাঁটু গেড়ে আয়রার সামনে বসে।

আরিয়ান: তুমি কি চাও, আমি তোমার বাবা হই?

আয়রা: হ্যাঁ। কারণ আমার স্কুলে সবাই বাবার সঙ্গে আসে। আমি চাই, তুমিও আমার সঙ্গে আসো।

আরিয়ান মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে। তার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে। মেহরিন মুখ ফিরিয়ে কাঁদে।

আরিয়ান: তুমি আমাকে একটা জীবন থেকে দূরে রেখেছিলে।

মেহরিন: জানি।

আরিয়ান: কিন্তু আজ আমি সেই জীবনটাকে ফিরে পেয়েছি।

মেহরিন: তুমি কি আমাকে ক্ষমা করতে পারবে?

আরিয়ান: আমি তোমাকে ক্ষমা করেছি কি না, সেটা সময় বলবে। কিন্তু আয়রার বাবা হতে আমার এক মুহূর্তও লাগবে না।

মেহরিন কাঁদতে কাঁদতে তার বুকে মাথা রাখে। আরিয়ান তাকে জড়িয়ে ধরে। আয়রা দুজনের হাত ধরে দাঁড়িয়ে থাকে।

সত্যিটা প্রকাশ পাওয়ার পর দুজনেই কিছুক্ষণ নিশ্চুপ রইল। বাইরে বৃষ্টি থেমেছে, কিন্তু কাচের গায়ে জল জমে আছে। আরিয়ান বুঝল, ক্ষমা চাওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা পাওয়া নয়। মেহরিনও জানত, পুরোনো অনুভূতি ফিরে এলেই পুরোনো ক্ষত মুছে যায় না। তাদের সামনে এখন সিদ্ধান্ত—স্মৃতির কাছে ফিরে যাওয়া, নাকি সত্যের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন করে শুরু করা।

মেহরিন ধীরে উঠে দাঁড়াল। দরজার কাছে গিয়ে ফিরে তাকিয়ে বলল, “আমি আজই কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে পারব না। কিন্তু এবার যদি কথা বলি, সত্যিটাই বলব। তুমিও তাই করবে?” আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল, “করব।” সেই ছোট্ট সম্মতিতে কোনো নাটকীয় জয় ছিল না; ছিল পরিণত ভালোবাসার প্রথম কঠিন পদক্ষেপ।

শেষ

বিষণ্ণতার শহরে

ঢাকা শহর · সন্ধ্যা

সূর্য ডুবে যাচ্ছে। আরিয়ান, মেহরিন আর আয়রা একসঙ্গে হাঁটছে। আয়রা আরিয়ানের হাত ধরে আছে। মেহরিন অন্য পাশে।

আরিয়ান: একটা ছবি তুলব।

তিনজন একসঙ্গে দাঁড়ায়। ক্যামেরার টাইমার চালু হয়। ছবি তোলার ঠিক আগে মেহরিন আরিয়ানের কাঁধে মাথা রাখে। আয়রা হাসে। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলে ওঠে।

ভয়েস ওভার — আরিয়ান

“আমি ভেবেছিলাম, ভালোবাসা মানে কাউকে নিজের করে পাওয়া।
আজ বুঝলাম, ভালোবাসা মানে শুধু দুটো হৃদয়ের মিলন নয়।
কখনো কখনো ভালোবাসা মানে একটা ছোট্ট হাত ধরে নতুন করে বেঁচে ওঠা।
ঢাকা শহরটা আজও বিষণ্ণ।
কিন্তু আমার পৃথিবীতে আজ আর কোনো শূন্যতা নেই।
কারণ, আমার হারিয়ে যাওয়া ভালোবাসা আজ আমার পাশে।
আর আমাদের ভালোবাসার সবচেয়ে সুন্দর গল্পটা...
আজ থেকে শুরু।”

কিছু ভালোবাসা ঝড়ের মতো এসে জীবন এলোমেলো করে দেয়, আবার কিছু ভালোবাসা নীরবে পাশে থেকে ভাঙা মানুষকে জোড়া লাগায়। আরিয়ান আর মেহরিনের গল্পে আজ সেই দ্বিতীয় ভালোবাসার শুরু—যেখানে আবেগ আছে, আকর্ষণ আছে, কিন্তু তার চেয়েও বড় আছে সম্মান, বিশ্বাস আর একে অপরকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা।

♡   ♡   ♡
সমাপ্ত
Sponsored link · পরবর্তী অংশের জন্য বাটনে চাপ দিন